বিয়ের আগে দুজনের কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া এখন অনেক পরিবারেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। এর উদ্দেশ্য কাউকে সন্দেহ করা নয় — বরং ভবিষ্যতের সন্তান আর দুজনের সুস্থ জীবনের জন্য আগে থেকে জানা ও প্রস্তুত থাকা।
কেন বিয়ের আগে পরীক্ষা
- বংশগত রোগের ঝুঁকি জানা: কিছু রোগ বাবা-মা দুজনেই বাহক হলে সন্তানের মধ্যে গুরুতর আকারে দেখা দিতে পারে।
- সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা: কিছু সংক্রমণ আগে জানলে চিকিৎসা বা টিকার মাধ্যমে জীবনসঙ্গীকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।
- সৎভাবে সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যগত বিষয় লুকিয়ে বিয়ে পরে আস্থা ভাঙে — দেখুন বায়োডাটায় কী লিখবেন।
সাধারণত যে পরীক্ষাগুলোর কথা বলা হয়
| পরীক্ষা | কেন |
|---|---|
| রক্তের গ্রুপ ও Rh ফ্যাক্টর | স্ত্রী Rh নেগেটিভ আর স্বামী Rh পজিটিভ হলে গর্ভাবস্থায় বাড়তি যত্ন লাগে — আগে জানা থাকলে ডাক্তার ব্যবস্থা নিতে পারেন |
| থ্যালাসেমিয়া বাহক পরীক্ষা (হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস) | বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার বাহক অনেক। দুজনেই বাহক হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে |
| হেপাটাইটিস বি ও সি | সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসা, আর হেপাটাইটিস বি-র ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীর টিকা |
| এইচআইভি ও সিফিলিস (VDRL) | যৌনবাহিত সংক্রমণ থেকে জীবনসঙ্গী ও ভবিষ্যৎ সন্তানের সুরক্ষা |
| রক্তে শর্করা | ডায়াবেটিস আগে ধরা পড়লে নিয়ন্ত্রণ সহজ |
কোন পরীক্ষা আপনার জন্য প্রয়োজন, তা পারিবারিক ইতিহাস আর স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে। পরীক্ষার আগে ও ফল হাতে পেলে একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন — এই তালিকা চিকিৎসা পরামর্শ নয়।
থ্যালাসেমিয়া নিয়ে একটু বিস্তারিত
থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ। একজন বাহক সাধারণত সুস্থ থাকেন, অনেকে জানেনও না যে তিনি বাহক। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বাহক হলে প্রতিটি গর্ভে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া রোগী হওয়ার ঝুঁকি থাকে, আর সেই সন্তানকে সারা জীবন নিয়মিত রক্ত নিতে হতে পারে। তাই একটা সহজ রক্ত পরীক্ষা বিয়ের আগে অনেক কষ্ট বাঁচাতে পারে। দুজনেই বাহক হলে কী করণীয়, তা নিয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
কীভাবে প্রসঙ্গ তুলবেন
অনেক পরিবার ভাবে, পরীক্ষার কথা বললে অপর পক্ষ অপমানিত বোধ করবে। প্রসঙ্গটা সহজ করতে:
- দুই পক্ষই করাবে — এটা এক পক্ষের ওপর সন্দেহ নয়, দুজনের যৌথ দায়িত্ব
- ভবিষ্যৎ সন্তানের কথা বলুন — উদ্দেশ্য সবার কাছে পরিষ্কার হয়
- কথা পাকা হওয়ার আগে, কিন্তু অনেক আলাপের পরে — যখন দুই পরিবার সত্যিই এগোতে চায়
- ফলাফল গোপন রাখুন — শুধু দুই পরিবারের দায়িত্বশীলরা জানবেন
ফলাফলে কিছু এলে
কোনো পরীক্ষায় কিছু ধরা পড়া মানেই বিয়ে বাতিল নয়। অনেক বিষয়ের চিকিৎসা আছে, অনেক ঝুঁকি সতর্কতায় সামলানো যায়। ডাক্তারের পরামর্শ নিন, দুই পরিবার খোলামেলা কথা বলুন, আর ইস্তিখারা করে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সিদ্ধান্ত নিন — দেখুন ইস্তিখারার নামাজের নিয়ম।